শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন

ইরানকে চাপে ফেলতে গিয়ে মিত্রদের তোপে ট্রাম্প: সংকটে আটলান্টিক জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো পশ্চিমা মিত্রদের সাথে ওয়াশিংটনের দূরত্ব ও অস্বস্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্ভূত সামরিক উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের আহ্বানে ইউরোপীয় দেশগুলোর শীতল প্রতিক্রিয়া ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঐক্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সমর-ভাবনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ন্যাটো মূলত একটি আত্মরক্ষামূলক জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজের খেয়ালখুশিমতো যুদ্ধ শুরু করে অন্যদের সেখানে টেনে আনবে- এমন কোনো দায়বদ্ধতা ন্যাটোর সনদে নেই। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি এবং ন্যাটোর ওপর ক্রমাগত চাপের ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

জার্মানি ও ফ্রান্সের অনীহা
সংকট নিরসনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি জার্মানি ও ফ্রান্স। বার্লিনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাতের দায়ভার ন্যাটোর নয়। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমেরিকার মতো শক্তিশালী নৌবাহিনী যেখানে কূল পাচ্ছে না, সেখানে ইউরোপের গুটিকয়েক রণতরী কী তফাৎ গড়ে দেবে?” ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল অবস্থান হলো- এই যুদ্ধ তাদের শুরু করা নয়, তাই এর পরিণতির ভাগীদারও তারা হতে চায় না।

কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও বিশ্ব অর্থনীতি
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে আলোচনার কথা বললেও কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। সমুদ্রসীমায় ইরানের মাইন মোকাবিলার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এখন চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে, কারণ তাদের প্রথাগত ‘মাইন-সুইপার’ জাহাজগুলো বর্তমানে অকেজো হয়ে বন্দরে পড়ে আছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে খোদ সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা
উপসাগরীয় যুদ্ধের ইতিহাস বলছে, সমুদ্রসীমা মাইনমুক্ত করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। জেনারেল কার্টার মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৯১ সালে কুয়েত উপকূলে মাইন পরিষ্কার করতে পশ্চিমা শক্তির ৫১ দিন সময় লেগেছিল। বর্তমানে খোদ যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের নৌবাহিনীই মাইন অপসারণ প্রযুক্তিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি। ফলে কারিগরি সীমাবদ্ধতা এবং মিত্রদের অনীহা মিলে ইরান সংকটকে এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com